বিদেশে গিয়ে উচ্চমানের গবেষণাগারে কাজ করা শুধু মেধার পরীক্ষা নয়—এটা এক ধরনের মানসিক লড়াইও। ড. আশরাফউদ্দিন আহমেদের কথায়, “বাংলাদেশ থেকে এসে ব্যর্থ হলে সেটা শুধু আমার নয়—দেশেরও ব্যর্থতা মনে হতো।” এই একটি বাক্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে প্রবাসী গবেষকদের এক গভীর বাস্তবতা।
উন্নয়নশীল দেশ থেকে আসা একজন শিক্ষার্থী যখন বিশ্বের সেরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন, তখন তাঁর ওপর চাপ থাকে দ্বিমুখী। একদিকে নিজের ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ—পিএইচডি শেষ হবে কি না, গবেষণা সফল হবে কি না। অন্যদিকে, দেশের প্রতিনিধিত্বের এক অদৃশ্য দায়বোধ—“আমি যদি পারি না, তাহলে কি আমার দেশের ছাত্রদের সামর্থ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠবে?” ড. আশরাফউদ্দিনের গবেষণাজীবনে এই মানসিক চাপ ছিল বাস্তব। তাঁর পিএইচডির সময় এমন একটি এনজাইম নিয়ে কাজ করতে হয়েছিল, যা খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যেত। এক পর্যায়ে তাঁর অধ্যাপক পর্যন্ত কাজ ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি পিছু হটেননি।
এই অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—বিজ্ঞান শুধু যন্ত্রপাতি আর ডেটার গল্প নয়; বিজ্ঞান হলো মানসিক দৃঢ়তার গল্প। ব্যর্থতার ভয়কে সঙ্গে নিয়েই গবেষককে এগোতে হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই মানসিক লড়াই আরও গভীর। কারণ তাঁদের কাঁধে থাকে নিজের পাশাপাশি দেশের সম্মান রক্ষার অনুভূতি।
ড. আশরাফউদ্দিন আহমেদের এই উপলব্ধি তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়। বরং অধ্যবসায়, ধৈর্য আর দায়িত্ববোধই একজন গবেষককে সত্যিকার অর্থে বড় করে তোলে।
ড. আশরাফউদ্দিন আহমেদের পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকারটি পড়ুন:

Leave a comment