বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশের কৃষি কীভাবে বদলাচ্ছে—একজন বিজ্ঞানীর চোখে।
বিশ্বজুড়ে কৃষি আজ আর কেবল মাটি, পানি আর শ্রমের ওপর নির্ভরশীল কোনো প্রাচীন পদ্ধতি নয়। তথ্যপ্রযুক্তি, সেন্সর, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে আধুনিক কৃষি ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে আরও পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক। এই পরিবর্তনের ধারায় বিদেশের গবেষণাগারে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের তরুণ বিজ্ঞানীরাও। তাঁদেরই একজন ড. তোফায়েল আহমেদ—কৃষি রোবটিক্স, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার, রিমোট সেনসিং ও সিদ্ধান্ত-সহায়ক প্রযুক্তি নিয়ে যাঁর গবেষণা আধুনিক কৃষিকে আরও কার্যকর করে তোলার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। Biggani.org–এ দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের কৃষিতে প্রযুক্তি প্রয়োগের বাস্তব চ্যালেঞ্জ, গবেষণার দৃষ্টিভঙ্গি এবং তরুণদের জন্য বাস্তব পরামর্শ তুলে ধরেছেন।
শিক্ষাজীবন ও গবেষণার পথে যাত্রা
ড. তোফায়েল আহমেদের বেড়ে ওঠা বাংলাদেশের একটি কৃষিনির্ভর সামাজিক পরিবেশে। শৈশব থেকেই প্রকৃতি, মাঠঘাট এবং মানুষের জীবনে কৃষির প্রভাব তাঁকে ভাবিয়েছে। গ্রামীণ কৃষকের জীবনসংগ্রাম, আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীলতা এবং সীমিত প্রযুক্তিতে উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। এই বাস্তব অভিজ্ঞতাই পরবর্তীকালে তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। কৃষিকে আরও কার্যকর, টেকসই ও প্রযুক্তিনির্ভর করার চিন্তা তাঁর মনে ধীরে ধীরে দানা বাঁধে। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার সময়ই তিনি বুঝতে পারেন, ভবিষ্যতের কৃষি আর শুধু মাঠের শ্রমের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না; বরং সেখানে ডেটা, যন্ত্র, সেন্সর ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ভূমিকা বাড়বে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর একাডেমিক যাত্রা তাঁকে নিয়ে গেছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। জাপানের সুকুবা (Tsukuba) বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তিনি কৃষি প্রকৌশলে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট আরবানা–শ্যাম্পেইনে পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেন, যেখানে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে তাঁর গবেষণার দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত হয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাওয়ার পর তাঁর চিন্তাজগৎ আরও বিস্তৃত হয়। আধুনিক ল্যাবরেটরি, উন্নত যন্ত্রপাতি ও আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা পরিবেশ তাঁকে কৃষি রোবটিক্স ও প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচারের দিকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে।
গবেষণার ক্ষেত্র
ড. তোফায়েল আহমেদের গবেষণার মূল ক্ষেত্র হলো প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার বা নির্ভুল কৃষি, কৃষি রোবটিক্স এবং সিদ্ধান্ত সহায়ক প্রযুক্তি। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, তিনি এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন যেখানে জমির প্রতিটি অংশের আলাদা চাহিদা বুঝে সার, পানি বা কীটনাশক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। কোথাও মাটি বেশি আর্দ্র, কোথাও কম—এই পার্থক্যকে বিবেচনায় এনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) ব্যবহার করে ফসল, বাগান ও পশুপালন ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ করে তোলাই তাঁর গবেষণার লক্ষ্য। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়ে, অন্যদিকে কমে পরিবেশের ওপর অযথা চাপ।
তাঁর গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সিদ্ধান্ত সহায়ক ব্যবস্থা (Decision Support Systems)। আধুনিক কৃষিতে একজন কৃষকের সামনে অসংখ্য তথ্য থাকে—আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মাটির গুণাগুণ, ফসলের রোগবালাইয়ের ঝুঁকি ইত্যাদি। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন সময়ে কী সিদ্ধান্ত নিলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে—এই ‘বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার কাঠামো তৈরিতে ড. তোফায়েল আহমেদের কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাস্তব অর্থে, তিনি কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ধরনের ডিজিটাল ‘সহকারী’ তৈরি করতে চান, যা প্রযুক্তির সাহায্যে কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করে তুলবে।
গবেষণা ও প্রকাশনায় তাঁর অবদান বিপুল। আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল যেমন Computers and Electronics in Agriculture, Biosystems Engineering, Transactions of ASABE, Sensors, Remote Sensing–এ তাঁর অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি শতাধিক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন এবং একাধিক বইয়ের প্রধান লেখক ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। কৃষি প্রকৌশল ও ডেটাভিত্তিক গবেষণায় তাঁর বইগুলো বিভিন্ন দেশে পাঠ্য ও গবেষণাসহায়ক গ্রন্থ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ব্যাপক গবেষণা কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ত্সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দফায় ‘বেস্ট ফ্যাকাল্টি মেম্বার’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
ড. তোফায়েল আহমেদ শুধু গবেষণাতেই সীমাবদ্ধ নন; তিনি বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা জগতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও যুক্ত। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নাল Computer and Electronics in Agriculture–এর অ্যাসোসিয়েট এডিটর হিসেবে তিনি নতুন গবেষণার মান যাচাই ও দিকনির্দেশনায় ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি জাপানের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক জার্নালের সম্পাদকমণ্ডলীতেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। আমেরিকান সোসাইটি অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স (ASABE), জাপানের কৃষি ও তথ্যবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট পেশাদার সংগঠনের সদস্য হিসেবেও তিনি বৈশ্বিক গবেষণা নেটওয়ার্কে যুক্ত।
তাঁর গবেষণা প্রকল্পগুলোতে জাপানের সরকারি সংস্থা JST ও JSPS, কৃষি মন্ত্রণালয় (MAFF) থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক গবেষণা উদ্যোগ ও শিল্পখাতের সহায়তা রয়েছে। এমনকি অ্যামাজনের গবেষণা উদ্যোগ থেকেও তিনি অনুদান পেয়েছেন—যা বোঝায় তাঁর কাজের প্রাসঙ্গিকতা কেবল একাডেমিক পরিসরে নয়, বাস্তব প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রেও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণা ও পেশাগত জীবন
বর্তমানে ড. তোফায়েল আহমেদ কৃষি রোবটিক্স, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার এবং রিমোট সেনসিংভিত্তিক গবেষণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো—কৃষিকে আরও দক্ষ, তথ্যনির্ভর ও টেকসই করা। স্যাটেলাইট ইমেজ, গ্রাউন্ড সেন্সর, জিআইএস ও স্বয়ংক্রিয় কৃষিযন্ত্রের সমন্বয়ে কীভাবে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়, উৎপাদন বাড়ানো যায় এবং কৃষকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করা যায়—এসব বিষয় তাঁর কাজের কেন্দ্রে রয়েছে।
তিনি কৃষি যন্ত্রপাতি উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও গবেষণা করেছেন, যেখানে মাঠপর্যায়ে যন্ত্রের ব্যবহারিক উপযোগিতা, খরচ ও পরিবেশগত প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর কাজের বড় একটি অংশ হলো গবেষণাগারের প্রযুক্তিকে বাস্তব মাঠপর্যায়ে কৃষকের উপকারে আনা। এই কারণে তাঁর গবেষণা শুধু তাত্ত্বিক নয়; বরং বাস্তব প্রয়োগের দিকটি সবসময় গুরুত্ব পায়।
বিজ্ঞানী অর্গে সাক্ষাৎকার
কিছুদিন আগে তিনি বিজ্ঞানী অর্গ এ নবীন শিক্ষার্থীদের সাথে এক সাক্ষাৎকার ও আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। এই আলোচনায় তার বৈজ্ঞানিক হবে গড়ে উঠার গল্প এবং তার গবেষনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সেই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি নিম্নে বিবৃত হল:
গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু: রোবটিক্স, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার ও ডেটা
ড. তোফায়েল আহমেদের গবেষণায় কৃষি রোবটিক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষি রোবটিক্স বলতে এমন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বা ব্যবস্থা বোঝায়, যা মাঠে মানুষের কাজের কিছু অংশ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে পারে—যেমন ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ বা নির্দিষ্ট জায়গায় সার প্রয়োগ। এতে শ্রমের চাপ কমে এবং কাজের নির্ভুলতা বাড়ে।
প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার কৃষিকে “এক জমিতে এক নিয়ম” ধারণা থেকে বের করে এনে জমির প্রতিটি অংশের আলাদা প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়। সেন্সর, ড্রোন বা স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় কোন জায়গায় পানি কম, কোথায় পুষ্টির ঘাটতি। বিষয়টি অনেকটা চিকিৎসকের মতো—রোগীর সমস্যার জায়গা দেখে চিকিৎসা দেওয়ার মতো।
ডেটার সংকট ও জলবায়ু অনিশ্চয়তা
বাংলাদেশের বাস্তবতায় বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্ভরযোগ্য ডেটার অভাব। অনেক এলাকায় মাটির গুণাগুণ বা ক্ষুদ্র জলবায়ু পরিবর্তনের তথ্য নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা হয় না। ফলে বিদেশি মডেল সরাসরি প্রয়োগ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। জলবায়ু পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়—অতিবৃষ্টি, খরা বা আকস্মিক বন্যার মতো ঘটনা কৃষকের পরিকল্পনাকে বারবার ভেঙে দেয়। তাই সিদ্ধান্ত-সহায়ক প্রযুক্তিকে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো নমনীয় হতে হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও নেটওয়ার্কিংয়ের অভাব
ড. তোফায়েল আহমেদের মতে, দেশের ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পরিকল্পিত সহযোগিতা ও নিয়মিত যোগাযোগ কম। ফলে এক প্রতিষ্ঠানে তৈরি হওয়া জ্ঞান অন্য প্রতিষ্ঠানে পৌঁছায় না। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সেমিনার, যৌথ গবেষণা ও খোলামেলা আলোচনার সুযোগ বাড়লে শিক্ষার্থীরা বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পাবে এবং গবেষণার মানও উন্নত হবে।
গবেষণা ও কৃষকের মধ্যে দূরত্ব
গবেষণার ফল মাঠে না পৌঁছানো একটি বড় সমস্যা। গবেষণার প্রশ্ন যদি কৃষকের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে না আসে, তাহলে প্রযুক্তি গ্রহণের আগ্রহও কমে। গবেষক, কৃষক ও কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে নতুন প্রযুক্তির প্রতি আস্থা তৈরি হয় এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তব প্রয়োগ সহজ হয়।
অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা: প্রযুক্তি থাকলেও মাঠে পৌঁছায় না
বড় কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করতে রাস্তাঘাট ও লজিস্টিক সাপোর্টের অভাব একটি বড় বাধা। গ্রামাঞ্চলের সরু রাস্তা বা দুর্বল সেতুর কারণে উন্নত যন্ত্র অনেক সময় মাঠে পৌঁছায় না। ড. তোফায়েল আহমেদের মতে, যান্ত্রিকীকরণ মানে শুধু যন্ত্র কেনা নয়—এই যন্ত্র ব্যবহারযোগ্য পরিবেশ তৈরি করাও সমান জরুরি।
তরুণদের জন্য গবেষণায় আসার বাস্তব পরামর্শ
ড. তোফায়েল আহমেদ তরুণদের বলেন, গবেষণায় আসতে হলে নিজের আগ্রহের জায়গা পরিষ্কার করা জরুরি। কেবল ট্রেন্ড দেখে বিষয় বেছে নিলে দীর্ঘ পথে টিকে থাকা কঠিন। দেশের বাস্তব সমস্যা থেকে গবেষণার প্রশ্ন তৈরি করলে কাজের অর্থবহতা বাড়ে। গবেষণায় ধৈর্য অপরিহার্য—ব্যর্থতা শেখার অংশ। বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি মাঠের বাস্তবতা বোঝা এবং নেটওয়ার্কিং গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন।
ড. তোফায়েল সমন্ধে বিস্তারিত পড়ুন:
- https://sj.jst.go.jp/interviewsandopinions/2025/c0218-01c.html
- https://www.linkedin.com/in/tofael-ahamed-1b6a7040/
উপসংহার: জাতীয় গর্ব ও অনুপ্রেরণার গল্প
ড. তোফায়েল আহমেদের পথচলা দেখায়—প্রযুক্তি, গবেষণা ও বাস্তবতার সেতুবন্ধন ছাড়া কৃষিতে টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। একজন বাঙালি বিজ্ঞানী হিসেবে ড. তোফায়েল আহমেদের পথচলা তরুণ গবেষকদের জন্য এক শক্ত অনুপ্রেরণা। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে, বৈশ্বিক বিজ্ঞানচর্চায় টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন ধারাবাহিক পরিশ্রম, আন্তঃবিভাগীয় জ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। তাঁর কাজ প্রমাণ করে—কৃষি এখন আর শুধু মাঠে কাজ করা নয়; এটি ডেটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্সের যুগে প্রবেশ করেছে। এই পরিবর্তনের অগ্রযাত্রায় ড. তোফায়েল আহমেদের মতো বিজ্ঞানীরাই ভবিষ্যতের কৃষিকে পথ দেখাচ্ছেন। তাঁর যাত্রা বাংলাদেশের তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা—শেখার আগ্রহ, ধৈর্য এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে বৈশ্বিক জ্ঞানকে দেশীয় উন্নয়নে রূপ দেওয়া সম্ভব। এই যাত্রা জাতীয় গর্বের প্রতীক হয়ে উঠুক—এই প্রত্যাশাই রইল।
সাক্ষাৎকারটি ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ এ অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিজ্ঞানী অর্গ এর পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি পরিচালিত করে বিজ্ঞানী অর্গ এর ভলেন্টিয়ার জাকিয়া খাতুন তাকি এবং হাসনা বানু মুমু। এছাড়া অংশগ্রহণ করেছিল বিজ্ঞানী অর্গ এর পাঠক এবং ভলেন্টিয়াররা।
লেখা:
ড. মশিউর রহমান

Leave a comment