অতিথি লেখক- আজিজুল হক
সহকারী অধ্যাপক, ইয়েংনাম বিশ্ববিদ্যালয়।
অনেকের ধারণা, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে গেলে অনেক টাকা লাগে — যা মধ্যবিত্ত বা নিম্নআয়ের পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। বাস্তবতা হচ্ছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিদেশে পড়াশোনা সম্ভব, যদি মেধা, প্রস্তুতি আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকে।
পরিবারের আর্থিক অবস্থা যদি খুব ভালো না-ও হয় — বাবা যদি কৃষক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা খেটে খাওয়া মানুষ হন — তবুও তা বাধা নয়। বরং সীমিত সুযোগেও যারা বড় স্বপ্ন দেখে, তাদের ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য আর বাস্তবতা অনুধাবনের ক্ষমতা অনেক বেশি।
শুধু টাকার অভাবে কেউ উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন — এটি সম্পূর্ণ সত্য নয়।
যারা সঠিকভাবে প্রস্তুতি নেয় না বা সঠিক তথ্যের অভাবে সুযোগ হারায়, তাদের ক্ষেত্রেই খরচ বেড়ে যায়।
এই যুগে, ইন্টারনেটের সুবাদে আবেদনপ্রক্রিয়া, প্রফেসরের সঙ্গে যোগাযোগ, স্কলারশিপ সম্পর্কে জানা বা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট তৈরি — সবকিছু শেখা সম্ভব। যারা এগুলো না জেনে এজেন্টের ওপর নির্ভর করে, তাদেরই বেশি খরচ হয়।
বিদেশে যাওয়ার কিছু সাধারণ খরচ থাকে — যেমন আবেদন ফি, প্লেনের ভাড়া এবং শুরুর দিকের সেটেলমেন্ট খরচ। তবে অনেক স্কলারশিপ আছে যেগুলো এসব খরচও পুরোপুরি কভার করে।
প্রায় সব আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ বা রিসার্চ ফান্ড শুধু টিউশন ফি নয়, মাসিক থাকা-খাওয়ার খরচও দেয়। এই অর্থে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যায়, এমনকি দেশের পরিবারকেও সাহায্য করা সম্ভব।
পড়াশোনা শেষে চাকরি পাওয়া নির্ভর করে আপনার দক্ষতা, প্রস্তুতি এবং কৌশলের ওপর। সঠিক পথ অনুসরণ করুন, নিজেকে যোগ্য করে তুলুন। অর্থের অভাব কখনো বাধা হবে না।
উচ্চশিক্ষা কেবল ধনীদের জন্য নয় — এটি সেইসব মানুষের জন্য, যারা যোগ্য, পরিশ্রমী এবং সময়মতো সঠিক প্রস্তুতি নেয়।
Leave a comment