“উদ্ভাবন: পাথরকুচি পাতা থেকে বিদ্যুৎ”

" … 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একটি পরীক্ষাগারের সামনে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ল। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সপ্তাহখানেক ধরে এই পাখাটি অবিরাম ঘুরছে। মগের ওই তরল পদার্থ আসলে পাথরকুচি পাতার রস। ওই রসই বিদ্যুতের মূল উৎস। 


নতুন এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. কামরুল আলম খান। তিনি বললেন, পাথরকুচির পাতা থেকে উত্পাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে বাতি জ্বালানো, পাখা ঘোরানো এমনকি টেলিভিশন চালানোও সম্ভব। এতে খরচও অনেক কম। …"

 

Source: prothom-alo :: 2010 August 23. Added from Canada, 2010  August 22.

শফিউল ইসলাম

ইমেইল: shafiul_i@yahoo.com :: ওয়েবঃ textek.weebly.com :: Canada :: www.linkedin.com/in/shafiul2009 

 

 

(প্রথমআলো থেকে সংগ্রীহিত)

উদ্ভাবন: পাথরকুচি পাতা থেকে বিদ্যুৎ

শুভংকর কর্মকার | তারিখ: ২৩-০৮-২০১০

পাথরকুচি পাতা থেকে তৈরি দ্রবণই বিদ্যুত্ তৈরির মূল উপাদান। বিদ্যুৎ দিয়ে এনার্জি বাল্ব জ্বালাচ্ছেন উদ্ভাবক মো. কামরুল আলম খান
ছবি: মনিরুল আলম
*
ভাঙাচোরা একটি চেয়ারের ওপর একটি ছোট বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। লক্ষ করলে মনে হবে, পাখায় বিদ্যুত্সংযোগ নেই। আছে শুধু একটি প্লাস্টিকের মগের মধ্যে সবুজ রঙের তরল পদার্থ। সেই তরলের মধ্যে দুটি ধাতব পাত ডোবানো। পৃথক তার সেই পাত দুটিকে যুক্ত করেছে পাখার সঙ্গে। এতেই পাখা ঘুরছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের একটি পরীক্ষাগারের সামনে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ল। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সপ্তাহখানেক ধরে এই পাখাটি অবিরাম ঘুরছে। মগের ওই তরল পদার্থ আসলে পাথরকুচি পাতার রস। ওই রসই বিদ্যুতের মূল উৎস।
নতুন এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. কামরুল আলম খান। তিনি বললেন, পাথরকুচির পাতা থেকে উত্পাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে বাতি জ্বালানো, পাখা ঘোরানো এমনকি টেলিভিশন চালানোও সম্ভব। এতে খরচও অনেক কম।
শুরুর গল্প: কামরুল আলম বলেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের স্বল্পতা, বিদ্যুৎ সমস্যা—এসব নিয়ে ভাববার সময় মনে হয়েছে উদ্ভাবন ছাড়া সংকট মোকাবিলা সম্ভব হবে না। নবায়নযোগ্য শক্তির কথাও ভেবেছেন তিনি। এসব ভাবতে ভাবতেই পাথরকুচি নিয়ে কাজ শুরু করেন।
২০০৮ সালের শুরুর দিকের কথা। এক ছাত্রকে দিয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে এক কেজি পাথরকুচি পাতা নিয়ে আসেন তিনি। তারপর শুরু হয় গবেষণা। কয়েক মাসের মধ্যেই আশানুরূপ ফল পেলেন তিনি। প্রথমে ১২ ভোল্টের ক্ষুদ্র আকৃতির বাতি জ্বালিয়ে তিনি আশার আলো দেখতে পান। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এই উদ্ভাবনের মেধাস্বত্ব নিবন্ধন (প্যাটেন্ট) করেন তিনি। এরপর গত দেড় বছরের গবেষণার পর বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, সাদাকালো টেলিভিশন চালাচ্ছেন তিনি।
গবেষণার টেবিলে পাথরকুচি: বাংলাদেশে পাথরকুচি পাতা নামে পরিচিত হলেও (বৈজ্ঞানিক নাম Bryophillum বা ব্রায়োফাইলাম) বিভিন্ন দেশে এটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। ভেষজগুণের কারণে অনেকে পাথরকুচিকে ‘মিরাকল লিফ’ বলেন। পেটের ব্যথা কমাতে দেশের অনেক অঞ্চলে এই পাতার ব্যবহার আছে।
পাথরকুচির পাতায় কী আছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে? এমন প্রশ্নের উত্তরে কামরুল আলম বলেন, পদার্থের মধ্যে এসিডিক (অম্লীয়) হাইড্রোজেন আয়ন ও ক্ষারীয় হাইড্রোক্সিল আয়ন থাকে। এসিডিক (অম্লীয়) হাইড্রোজেন আয়ন বেশি পরিমাণে থাকলে সেই পদার্থ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তিনি বলেন, পাথরকুচি পাতায় হাইড্রোজেন আয়নের পরিমাণ প্রায় ৭৮ শতাংশ, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে খুবই সহায়ক।
কামরুল আলম আরও কয়েকটি গাছের পাতা নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি দেখেছেন তেঁতুল, লেবু, আলু, আম, কাঁঠাল, টমেটো, বটের পাতায় ক্ষারীয় আয়নের পরিমাণ বেশি বলে বিদ্যুৎ উত্পাদন সম্ভব নয়।
যেভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়: পাথরকুচি পাতা দিয়ে ব্লেন্ডার মেশিনের মাধ্যমে শরবতের মতো দ্রবণ তৈরি করা হয়। দ্রবণে পাথরকুচি পাতা ও পানির অনুপাত হতে হবে ৮:১। ওই দ্রবণ প্লাস্টিকের পাত্রে রাখা হয়। এরপর একটি তামা ও একটি দস্তার পাত দ্রবণে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। দ্রবণের সংস্পর্শে আসামাত্রই রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে তামার পাতে ধনাত্মক ও দস্তার পাতে ঋণাত্মক বিভবের (পটেনশিয়াল) সৃষ্টি হয়। বিপরীতমুখী এই বিভবের দ্বারাই দুই পাতের মধ্যে বিভব পার্থক্য হয়। এতেই বিদ্যুত্প্রবাহ সৃষ্টি হয়। বেশি বিদ্যুৎ পেতে হলে একাধিক তামা ও দস্তার পাত ঘন করে সমান্তরালভাবে বসাতে হবে।
পাথরকুচি পাতা চাষ: পাথরকুচি পাতার চাষ বেশ সহজ। পাথরকুচির শুধু পাতা মাটিতে ফেলে রাখলেই সেখান থেকে গাছ জন্মায়। পতিত জমি, বাড়ির ছাদে, উঠানে, টবে, যেকোনো জায়গায় এই পাতার চাষ সম্ভব।
কামরুল আলম বলেন, দেশের পতিত জমিতে সহজেই প্রচুর পাথরকুচি পাতার চাষ সম্ভব। আর চাষের এক মাসের মধ্যেই পাতা কাজে লাগানো যায়। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ তৈরি করতে এক মাসের মধ্যে নতুন করে পাথরকুচির দ্রবণের প্রয়োজন পড়ে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ আলোকিত করতে পরিকল্পনা করেছেন কামরুল আলম। এর জন্য ৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ দরকার হবে। আর ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে লাগবে প্রায় ৪০০ কেজি পাতা। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা মুঠোফোনে তাঁকে বলেছেন, তাঁরা পাতা সরবরাহ করবেন।
খরচ হবে কম: কামরুল আলম বলেন, পাথরকুচি পাতা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হবে কম। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ পড়বে এক টাকার কম। এটা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের তিন ভাগের এক ভাগ। তিনি দাবি করেন, ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে অবকাঠামো খাতে ব্যয় হবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি: এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বহনযোগ্য বৈদ্যুতিক পাখা তৈরি করেছেন কামরুল আলম। ১২ ভোল্টের এই বৈদ্যুতিক পাখা টানা এক মাস হাওয়া দিতে পারে। এক মাস পর শুধু দ্রবণ পাল্টে দিলেই পাখা আবার ঘুরবে।
কামরুল আলম বলেন, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত্সংযোগের আওতায় এলেও লোডশেডিংয়ে তারা বিপর্যস্ত। তিনি বলেন, পল্লি অঞ্চলে তাঁর প্রযুক্তি সহজেই ব্যবহার করা সম্ভব হবে। প্রতিটি পরিবার নিজেদের প্রয়োজনের বিদ্যুৎ নিজেরা উৎপাদন করতে পারবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর দ্রবণের বর্জ্য অন্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে। পাথরকুচির বর্জ্য কোনো পাত্রে বদ্ধ অবস্থায় রাখলে তা থেকে মিথেন গ্যাস পাওয়া যায়। এই গ্যাস দিয়ে রান্না করা সম্ভব। গ্যাস উৎপাদনের পর বর্জ্য আবার জৈব সার হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
চাই আরও গবেষণা: কামরুল আলম খান নিজের অর্থে এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সহায়তা নিয়ে এ পর্যন্ত গবেষণা চালিয়ে এসেছেন। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণার জন্য অর্থ ব্যয় করতে পারছেন না। পাথরকুচির দ্রবণ রাখার জন্য তাঁর দরকার বড় বড় পাত্র। বর্তমানে তিনি ব্যাটারির খোলস ব্যবহার করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বিশ্বব্যাংক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ‘হেকেপ প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প আছে। এই প্রকল্প গবেষণায় সহায়তা দেয়। কামরুল আলম পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন ও গবেষণার জন্য সেখানে এক কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন।
কামরুল আলম বলেন, পাথরকুচি পাতা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য আরও একটি গবেষণা চলছে। তিনি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেসবাহউদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি চলছে।
কামরুল আলম খান বলেন, ‘প্রথমে আমি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ ও পরবর্তী সময়ে পুরো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে এই বিদ্যুৎ দিয়ে আলোকিত করতে চাই।’ এ ক্ষেত্রে সফল হলে তিনি দ্বীপাঞ্চলের মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। এ জন্য ‘পাথরকুচি পাতাপল্লি’ স্থাপন করার পরিকল্পনা তাঁর আছে। তিনি বলেন, এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।

ফেসবুক কমেন্ট


25 Comments

  1. জাপানে একই ধরনের বায়োফুয়েল নিয়ে কাজ চলছে। ভালমত সায়িন্টিফিক ভাবে কাজটি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে ভাল হবে।

  2. উদ্ভাবনটি সময় উপযোগী। আমাদের দেশে এ ধরনের গবেষনা হয় এটা জেনে খুবই খুশি হয়েছি। আশা করি সরকার ও অন্যান্য বেসরকারী প্রতিষ্ঠান তার এ গবেষনায় সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবেন। মো. কামরুল আলম খান স্যার কে এ জন্য ধন্যবাদ।

  3. পাথরকুচি পাতা থেকে বিদ্যুত্ তৈরির খবরটা আসলে চমৎকার কিন্তু এই সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি গভেষনা জন্য প্রযোজন অর্থে ।আমাদের দেশে গান নাটকে জন্য অর্থ যোগানে জন্য আনেক কোম্পানি পাওয়া য়ায কিন্তু সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি গভেষনা জন্য দারে দারে ঘুরে ও অর্থ যোগান করা যাই না যার কারণে গভেষনা কাজ শুরু হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে য়ায। আমাদের মেধার কমতি নেয় অর্থে কমতি সব সময় । দেশের সরকার কাছে অনুরোধ এই যে আমাদের পাঠানো প্রবাসীদের রেমিট্নেস এমনি এমনি পড়ে আছে তা গভেষণার কাজে ব্যবহার করে দেশ ও জাতিকে উন্নতি পথে নিয়ে যেথে পারে সে সাথে প্রবাসীরা ও বিনিযোগ করতে পারে।

  4. পাথরকুচি পাতা দিয়ে না হলেও অন্যান্য প্রকৃতিক গাছপালা ব্যবহার করে অনেক আগেই বিদ্যুৎ তৈরির কৌশল অনেক আগেই আবিষ্কৃত হয়েছে বলে জানি। আমার মতে এটা কোন মৌলিক আবিষ্কার নয়। যাই হোক , বিদ্যু উৎপাদনের আরও অনেক পদ্ধতি আছে, যেগুলোর অধিকাংশই অত্যন্ত ব্যয়বহুলএবং বাণিজিকভাবে লাভজনক নয় । আবিষ্কারক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচের সাথে যে তুলনা করেছন তা আমি ঠিক মানতে পারছি না। সোলার সেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে খরচ কিছু বেশি হলেও এর মেইনটেনেন্স খরছ খুবই কম। সোলার সেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়,যে কারণে মূলত খরচ বেশি হয়। দেশে সোলার সেল তৈরী করা গেলে খরছ নিঃসন্দেহে অনেক কমে যাবে।
    গাছের পাতা ব্যবহার করলে পরিবেশের অবশ্যই ক্ষতি হবে, এছাড়া বাইপ্রোডাক্ট হিসাবে যে বর্জ্য তৈরী হবে(যেমন মিথেন গ্যস) তাও পরিবেশের জন্য ভাল নয়।
    অবশেষে সবাইকে আমার অনুরোধ, একটা বিষয় মনে রাখার, বাণিজিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন আর ল্যাবরেটরিতে উৎপাদনের মধ্যে অনেক পার্থ্ক্য আছে।

  5. এটা কোন রকাম মৌলিক আবিষ্কার নয় এবং কৌশলটা একদম মৌলিক- যেটা ভোল্টা আবিষ্কার করে গেছে। কিন্তু আগে কখনও পাথরকুচি ব্যবহার করা হয় নি। পাথরকুচির রসের চেয়ে লেবুর রসের pH আনেক বেশী। কিন্তু তারপরও পাথরকুচির efficiency অনেক বেশী। কারনটা কী আপনি জানেন? কারন লেবু শুধুমাত্র সাইট্রিক এসিড নির্ভর। কিন্তু পাথরকুচি তা নয়। পাথরকুচির pH মাত্র 4.2 । কিন্তু এটার ডিউটি টাইম অনেক বেশী। 110×20 cm^2 এর একটা মডিউল দিয়ে আমরা যেনতেন ভাবে 80 watt power produce করতে পারি। আর যদি সব প্যারামিটারগুলা খুব strictly maintain করি, তাহলে আমারা এটকে 100 watt পর্যন্ত পেয়ে থাকি। বিষয়টা initial cost বেশী আসে, কিন্তু Long Term Production এর জন্য এটা অতি মাত্রায় সস্তা। কিন্তু তার জন্য আপনাকে অবশ্যই মেগা ওয়াট স্কেলে প্রডাকশনে যেতে হবে। ক্ষুদ্র পর্যায়ে লাভজনক করার জন্য আমরা সমস্যাগুলা মার্ক করছি। এটা নিয়ে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা ফিল্ড ফিজিক্সের, কিন্তু বর্তমানে কাজ করা লাগছে কেমিস্ট্রর। এটাই আমাদের অন্যতম অসুবিধা। তাছাড়া দেশে বি.সি.এস.আই,আর. এর মতো যেসব নামধারী গবেষণাগারগুলা আছে, আমরা তাদের কাছ থেকে কোন রকম সাহায্য পাই নি। এমনকি তারা আমাদেরকে একরকম অপমানও করেছে। কিন্তু আমরা জানি তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ মাটি নিয়ে গেলেও স্বর্গীয় প্রসাদ মনে করে সেটার টেস্ট করে দেয়।
    সৌরশক্তির কথা আপনি ঠিকই বলেছে, কিন্তু এটা সূর্যের মতিগতির উপর নির্ভর। স্টোরেজ ব্যটারিরও একটা স্টোরেজ সীমাবদ্ধতা আছে। এটা আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। আমরা যদি আমাদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারি তাহলে এটা পৃথিবীর অন্যতম সম্তা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি হবে।
    দেশে সোলার সেল তৈরী করা গেলে খরচ অনেক কম হবে সত্য, কিন্তু সবচেয়ে সস্তা হবে না। আপনাকে একটা তথ্য দি। আমার এক ফ্রেন্ডের আত্মিয় চায়না থেকে সৌর প্যানেল আমদানি করে এবং উনি নাকি ভয়ংকর লাভ রেখে বিক্রি করে। তার তথ্য মতে প্রতি প্যানেলের মূলের চেয়ে তার লাভের পরিমান বেশী থাকে। দূর্ভগ্যক্রমে আমাদের দেশের প্রায় সকল ব্যবসায়ীরা তার মতো দেশপ্রেমিক।
    আপনি পরিবেশ মিথেন গ্যাস জনিত পরিবেশ দূষণের কথা বললেন। আমরা কিন্তু এই মিথেন গ্যাস জ্বালিয়ে রান্না থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ তৈরী করছি। এমনকি আমরা বিশেষকরে ঢাকাবাসীরা ডাস্টবিনে সঠিক ভাবে ময়লা ফেলতে অভ্যস্ত না। এই ময়লাগুলাও কিন্তু পচে মিথেন গ্যাস তৈরী করে।
    যায় হোক, আমাদের প্রস্তাবিত পাওয়ার প্লান্ট ডিজাইনে এই মিথেন গ্যাসের ব্যাপারটা মাথায় আছে। আমরা এই গ্যাসটা অপচয় না করে এটাকে সংগ্রহ করে রান্নার জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করতে চাই। শুধু তাই না, পাথরকুচির যে উৎছৃষ্ট বর্জ্য থাকবে, তা খুব ভাল জৈব সার। এবং এটা আমরা আমাদের ল্যাবের করিডরের টবের গাছগুলাতে নিয়মিত ব্যবহার করছি। আশাকরি এটা ভবিষ্যতে একটা অন্যতম জনপ্রিয় জৈব সার হবে।
    আমাদের দেশে রাস্তার দুধারে যে পরিমাণ জমি আছে তা কিন্তু একেবারেই কম না। ছায়া বৃক্ষ লাগানোর পরও দুই গাছের মাঝে অনেক ফাকা জায়গা থাকে। সেখানে কিন্তু আমরা চাইলেই পাথরকুচি চাষ করতে পারি এবং এরজন্য কোন বড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন নেই, যেটা প্রয়োজন তা হলো আমাদের স্বদিচ্ছা।
    এটা পুরোপুরি সত্য যে ল্যাবরেটরিতে করা আর বানিজ্যকভাবে উৎপাদন করা এক জিনিষ না। কিন্তু এই সত্যটা আমাদেরকে ভূলেগেলে চলবে না যে, আজ আমরা যে বিদ্যুৎ বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করে পাচ্ছি, তা একসময় ল্যাবরেটরিতেই উৎপাদন করা সম্ভব হতো। এমনকি ইংল্যান্ডের রাণী (সম্ভবত ভিক্টরিয়া) ওই সময়ে বিদ্যুৎতের ডেমনেস্ট্রেসন দেখে বলে ছিলেন-“এই বিদ্যুতের প্রয়োজনীতাটা কী?” উত্তরে মাইকেল ফ্যারাডে বলেছিলেন-“আপনি একটা সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর প্রয়োজনীয়তা জিগাস করতে পারেন না”।

    যায়হোক, আমরা সকলের সহযোগীতা চাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য গ্রামের ওই খেটে খাওয়া মানুষগুলো, যারা সূর্য ডোবার পর তাদের ঘর আলোকিত করতে পারে না।

  6. ভাইয়া আমাকে কি স্যার এর মোবইল নাম্বারটা দেওয়া যায়?
    আমি এই প্রজেক্ট এর জন্য যে কোন সময় যে কোন সাহায্য করতে প্রস্তুত|আমি মূলত এই প্রজেক্টে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতে চাই|
    🙂

  7. এত বেশি ওয়াট উৎপন্ন হচ্ছে দেখে আমি খুবই অবাক। আমি খুব দ্রুতই চেষ্ট করব বাসায়।
    অনেক পাতা লাগবে মনে হচ্ছে। কিন্তু এটা ইম্পসিবল না। বারান্দায় পাথর কুচি আছে। চেষ্টা করে দেখতে হবে।
    আমার ৪০০ ওয়াট হলেই হল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*