Home / বিজ্ঞানীদের খবর / ‘হুজ হু বাংলাদেশে ২০১৭’ পদক পেয়েছেন প্রফেসর ড ম আ রহিম

‘হুজ হু বাংলাদেশে ২০১৭’ পদক পেয়েছেন প্রফেসর ড ম আ রহিম

কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ‘হুজ হু বাংলাদেশে ২০১৭’ পদক পেয়েছেন প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম, পরিচালক, বাউ-জার্মপ্লাজম সেন্টার ও প্রফেসর, উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।  

‘হুজ হু’ ১৮৪৯ সাল থকেে যুক্তরাজ্য সহ সারা বিশ্বের অনুসরণীয় গুণী জনদের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রকাশ এবং পদক প্রদান করে আসছে। এখন র্পযন্ত সারা বিশ্বে ৩৩ হাজার গুণী জনের সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রকাশ করছেে ‘হুজ হু’। বাংলাদশের গুণী জনরা ২০১৬ সাল থেকে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাচ্ছেন। ১২ জন গুণী জনকে স্ব-স্ব ক্ষত্রেে অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়। 

সংক্ষেপে প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম 

১৯৮০ সালে বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৮২ সালে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন, বর্তমানে তিনি অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান গবেষক হিসেবে কর্মরত। ২০০৩, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১২, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উইন্সকন্সিন (University of Wisconsin, USA) ও ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ে (USA)  ভিজিটিং প্রফেসর ও বিজ্ঞানি হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভারসিটি অব উইসকানসিন এর Adjunct Faculty হিসাবে গবেষণা করে যাচ্ছেন। প্রফেসর রহিম ড্যাফোডিল ইন্টান্যাশনাল ইউনিভারসিটির ও এ্যাডভাইজার। 

ড. আব্দুর রহিম সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি) এর আর্থিক সহযোগিতায় ১৯৯১ সালে এক একর জায়গা নিয়ে গ্রাম ও খামার বনায়নের মাধ্যমে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখে কর্মমুখর হয়ে বনবাদাড়, পাহাড়-পর্বত চষে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দেশের প্রচলিত ও বিলুপ্তপ্রায় ফলের গাছ সংগ্রহ করে গড়ে তোলেন ফলদ বৃক্ষের জার্মপ্লাজম সেন্টার, যার ফলাফল ক্রমেই ইতিহাস রচনা করছে। বর্তমানে এর আয়তন ৩২ একর। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা ও নিষ্ঠার গুণে ফলবাগানটি বর্তমানে দেশের সর্ববৃহৎ ও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফলদ বৃক্ষের জাদুঘরে পরিণত হয়েছে । এ জাদুঘরে রয়েছে ১৮১ প্রজাতির প্রায় ১১৫২৮টি দেশী – বিদেশী বিরল প্রজাতির ফলের মাতৃগাছ। এর মধ্যে ৩০২ রকমের আম, ৫৭ রকমের পেয়ারা, ২৭ রকমের লিচু, ৪৮ রকমের লেবু , ৯৯ রকমের কাঁঠাল, ৬৭ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় অপ্রধান ফল, ১২৭ প্রজাতির ফলদ ঔষধি গাছ ও ৫২টি দেশ থেকে সংগ্রহকৃত ৫৮ প্রজাতির বিদেশী ফল।১৯৯১ সাল থেকে মেধাবী, বুদ্ধিদীপ্ত ও নিরলস গবেষণার ফলে সর্বমোট ৯০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফল, সব্জি, মসলার জাত জাতীয় বীজ বোর্ডের মাধ্যমে অবমুক্ত করেছে। গবেষণার স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয়ভাবে সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে তিনি পেয়েছে অনেক পুরস্কার । এ ছাড়া তিনি বৃক্ষরোপনে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০০৪, ২০১২, ২০১৩ সহ অনেক সম্মাননা পদক ও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। শান্তিতে নোবেল বিজীয় ড.নরমান ই বোরলগ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মাননা-২০০৮ লাভ করেন। এছাড়া আমেরিকাতে বসবাসরত বাংলাদেশী অধিবাসীগণ দিয়েছেন বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার, ২০০৮, বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক-২০১৪, তিনি খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ্ স্বর্ণপদক (২০১৬); বাংলাদেশ একাডেমী ও এগ্রিকালচার স্বণৃপদক (২০১৬); ও বাংলাদেশ একডেমী অব সায়েন্স স্বর্ণপদক ২০১২ অর্জন করেছেন। প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম এর তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত ২৩ জন পিইচডি ও ২৫০ জন মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেছে। বর্তমানে ৭ (সাত) জন পিএইডি ও ২৫ (পঁচিশ) জন এম.এস. পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রী গবেষণা করছে। প্রফেসর ড. এম. এ. রহিম ফল, কৃষি বনাবয়ন, ফল সংগ্রহ, সংগ্রহ পরবর্তী পরিচর্যা ও সংরক্ষন বিষয়ে প্রায় ২২৫এর বেশি দেশী-বিদেশী আর্ন্তজাতিক মানের জার্নালে প্রকাশনা প্রকাশ করেছেন।

 


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কে আরো নতুন নতুন সংবাদ জানতে সাবস্ক্রাইব করুন।

About salmaAkter

Check Also

ঝরে গেল আমাদের বড়বৃক্ষ- দ্বিজেন শর্মা

বেণুবর্ণা অধিকারী পাতার উদ্গম ও ঝরে যাওয়া, আবারও পত্রপুষ্পে বৃক্ষের পল্লবিত হওয়া—এ তো প্রকৃতির স্বভাবধর্ম,মানুষও …

ফেসবুক কমেন্ট


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।