সঠিক সময়ের ঘড়ি

 

আমরা অনেকেই হাতঘড়ি পড়ে থাকতে ভালোবাসি। সময়কে নিয়ে অনেকের মাথাব্যথা না থাকলেও অনেকেই হাতঘড়ির ব্যাপারে খুবই সৌখিন। কিন্তু সমস্যা হল আমাদের হাতের ঘড়ি কি সবসময়ই সঠিক সময় দিচ্ছে? কখনও দেখা যায় সেটি ভুল সময় দেখাচ্ছে। তা এনালগ ঘড়িই হোক কিংবা ডিজিটাল ঘড়িই হোক। আবার ঘরের ঘড়িগুলি উল্টো পাল্টা সময় দিলে পুরো পরিবারের সবাই ভুল সময়ে চলবে। আমার ঘরে একটি অনেক পুরানো একটি দেয়াল ঘড়ি রয়েছে যা কিছুদিন পরেই ১০/১৫ মিনিট দ্রুত সময় দেখায়। তাই কিছুদিন পরেই সময়টি সঠিক করে দিতে হয়। অন্য একটি ঘরে আরেকটি ঘড়ি রয়েছে যেটির ব্যাটারি কিছুদিন পর পরেই পরিবর্তন করতে হয়। সামান্য একটি ঘড়ি এত ব্যাটারি খায় কেন, সেটাই রহস্য।

ঘড়ির সময় সঠিক সময় দেখানোর জন্য অনেক প্রযুক্তি বের হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন প্রযুক্তিই নেই যা সময়কে একেবারেই সঠিকভাবে দেখাবে। ঘড়িতে নুন্যতম কোন ভুল হবেনা। সাধারণত এনালগ ঘড়ির যন্ত্রাংশগুলি অনেক ধরনের ধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়। তাই সেগুলি তাপমাত্রার সাথে সাথে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে। গ্রীষ্মকালে কিংবা শীতকালে ঘড়িতে ভুল সময় দেখাতে পারে। আবার ডিজিটাল ঘড়ি যেগুলি ইলেকট্রনিক্স সার্কিটের মাধ্যমে চলে তাও সার্কিটের সীমাবদ্ধতার কারণে সময়ের তালে তালে সময় ভুল দেখাতে পারে।
ঘড়ির সময় ভুল হলে তা সঠিক করে নেবার জন্য একটি প্রচলিত পদ্ধতি হল রেডিও সিগনাল গ্রহণ করে ঘড়ি সময় নিজে নিজেই ঠিক করে নেয়। অনেক দেশই এই সঠিক সময় বিভিন্ন জায়গা তেকে রেডিও সিগনালে গ্রহণ করে নেয়। আমাদের বাপদাদা-দের দেখেছেন হয়তো সংবাদের সময় তাদের ঘড়ির সময় সঠিক করে নিতেন।

 

যদিও ঘড়ির এই ভুলগুলি খুব খুবই সামান্য যা আমরা সাধারণত খেয়াল করিনা। এক সেকেন্ডের কয়েক হাজার ভাগের এক ভাগ! তা বলুন কেই বা খেয়াল করবে? কিন্তু আমরা খেয়াল না করলেও বিজ্ঞানীরা কিন্তু থেমে নেই। তারা এখনও চেষ্টা করছে কিভাবে এমন ঘড়ি তৈরি করা সম্ভব হবে যার সময় কখনই ভুল হবেনা। কিছুদিন আগে নতুন একটি আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের সাড়া দিয়েছে। এমন একটি নতুন ক্রিস্টাল আবিষ্কৃত হয়েছে যা সময় সঠিক ভাবে পরিমাপ করবে। আমেরিকার লরেন্স বার্কলে গবেষণাগারের প্রোফেসর জিয়াং জাং (Xiang Zhang) ও তার টিম এমন একটি ক্রিস্টাল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন যা সময়কে সঠিকভাবে মাপতে পারবে। এই ধরনের ক্রিস্টালকে স্থান-সময় ক্রিস্টাল (space-time crystal) বলে। তবে এই ধরনের ক্রিস্টালের সম্ভাবনার কথা নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী এমআইটি’র বৈজ্ঞানিক ফ্রাঙ্ক উইলজেক (Frank Wilczek) এই বছরের শুরুর দিকে বলেছিলেন। কিন্তু তখনও তিনি বলতে পারেননি কিভাবেই এমন ক্রিস্টাল তৈরি করা যেতে পারে। তার কল্পনার ক্রিস্টালটি তৈরি করতে সমর্থ হলেন প্রোফেসর জিয়াং এর গ্রুপ। ,

সাধারণ ক্রিস্টাল যেমন লবণ শুধু মাত্র ত্রিমাত্রিক গঠন করে কিন্তু এই নতুন ক্রিস্টাল চতুর্থ মাত্রা “সময়” ক্ষেত্রেও সিমিট্রিক গঠন করে।

 

আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে আমাদের হাত ঘড়িতে এমন ক্রিস্টাল ব্যবহার করা হবে এময় সময় সম্পূর্ণভাবে সঠিকভাবে মাপা যাবে। আর হয়তো বলা যাবেনা, হাত ঘড়ি স্লো ছিল তাই দেরী হয়ে গেল।

 

(চিত্র: জিয়াং এর ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রীহিত)

ফেসবুক কমেন্ট

2 Comments

  1. আমাদের চারিদিকের সূক্ষ্ম সব বিষয়ের বড় বড় সব তথ্য তুলে ধরেছেন ড: মশিউর রহমান ভাই। সব কিছুতে তার গভীর চিন্তাধারার স্মাক্ষর এগুলো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

*

You may use

আপনি চাইলে এই এইচটিএমএল ট্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>